Breaking News

ঈদের ছুটিতে কঠোর নিরাপত্তার প্রস্তুত ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘি | N NEWS 24

  


ডেস্ক রিপোর্টঃ 

ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ৪১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বিনোদন কেন্দ্র নান্দাইল দিঘি সেজেছে নতুন সাজে। এবার ঈদ মৌসুমের উপর ভরসা করছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। ঈদের ছুটিতে আনন্দে মেতে উঠতে দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুত কালাই উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘি। ঈদের লম্বা ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাবেন এই দিঘিতে।

এবারের ঈদে বেশি ছুটি থাকায় বিগত সময়ের তুলনায় দর্শনার্থী ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে ও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, নান্দাইল-দিঘির নাম করণের ইতিহাস খুঁজলে জানা যায় করতোয়া নদী খনন করার ফলে এ অঞ্চলের পানি ওই নদীতে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে মাঠ, ঘাট শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যেত এক সময়। ফলে চারদিকে শুধু খাঁ খাঁ করতো এ এলাকা। সে সময়ে প্রজাকুলের দুঃখের কথা ভেবে রাজা নন্দলাল ১৬১০ খ্রীষ্টাব্দে বিশালায়তনে এই দিঘিটি খনন করেন। রাজা নন্দলাল থেকেই নান্দাইল-দিঘির নাম করণ হয়েছে। এ দিঘির আয়তন প্রায় একশত একর অথাৎ ৩শ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ১শ ৮০ বিঘা জলকর। স্বচ্ছ পানির দিঘিটি প্রায় ১ কিলোমিটার লম্বাও বটে, আবার গভীরও বেশ। দিঘির চতুর্দিকে রয়েছে উঁচু নিচু টিলা এবং সবুজ শ্যামল বৃক্ষে পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা। দিঘিটি সত্যিই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। 

জনশ্রুতি মতে এ দিঘিটি ১ রাতে খনন করা হয়েছিল বলে এমন ধরণের কথা অনেক প্রবীণদের মুখে শোনা যেত অনেক আগেই। সেই থেকে আজ পর্যন্ত দিঘির তলদেশে কি আছে তাও বলতে পারেনা কেউ। নান্দাইল-দিঘিতে সেই সময়ের জলরাশিতে ঘুড়ে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কয়েটি স্পীড বোট। কালভেদে প্রতিদিন অসংখ্য দেশী বিদেশী পাখি, সাইবেরিয়ান হাঁস, অষ্ট্রোলিয়ান হাঁস, বুনো হাঁস, সারস, কাউন পাখি, বকের সারি, রাজহাঁস, চীনা হাঁসসহ নাম না জানা বিভিন্ন প্রজাতির রং বেরং এর পাখি এখনও দৃষ্টি কাড়ে। শীত মৌসুমে এদের আগমনে জেগে উঠা চর ও স্বচ্ছ পানিতে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারনা হয়। এ ছাড়া দিঘির টিলার উপর বসে প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের দৃশ্য খুবই উপভোগ্য। চাঁদনী রাতে চাঁদের আলোতে মৃদু বাতাসে দিঘির স্বচ্ছ পানি সোনা-রুপার মত ঝলমল আলো দিয়ে উদার প্রকৃতি প্রেমিককে আহবান জানায়। তাই রাতে দিঘিটি হয়ে উঠে আরও আকর্ষনীয় ও মনোরম। 

শীত আগমনের সাথে সাথে অতিথি পাখিদের হাত ধরে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত হতে নান্দাইল-দিঘিতে আগমন ঘটে নানা বয়সের পর্যকটদের। বগুড়া-জয়পুরহাট মহাসড়কের উত্তর পার্শ্বে বিশালায়তন দিঘিটি অবস্থিত। বগুড়া হতে বাস যোগে পুনট বাসট্যান্ডে নেমে অথবা জয়পুরহাট থেকে বাস যোগে কালাই বাসষ্ট্যান্ডে নেমে টমটম অথবা অট্যোভ্যান যোগে নান্দাইল-দিঘিতে যাওয়া যায়।

কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বকুল ও স্নাতক ছাত্রদের সামাজিক সংগঠন কালাই গ্রাজুয়েট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক নান্দাইল-দিঘিকে পর্যটন স্থান হিসাবে গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। তার জন্য বেশী প্রয়োজন দিঘির চারপাশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা। তাছাড়া যদি দিঘির এপার থেকে ওপার যাতায়াত করতে একটি ওভার ব্রীজ স্থাপন করা হয়, তাহলে যেমনি এর সৌন্দর্য ও গুরুত্ব বাড়বে তেমনি এখান থেকে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ও হবে এবং এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। 

কালাই থানা অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন বলেন, বিনোদন কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নান্দাইল দিঘিতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি থাকবে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটির কারনে ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘিতে দর্শনার্থী বহুগুণে বেড়ে যাবে। বিনোদন কেন্দ্রটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবীরা নিয়োজিত থাকবে।

No comments

দীর্ঘ ৩০ বছর পর হাইকোর্টের রায়ে ১২ একর ৬৫শতক সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি পেলো জনসাধারণ | N NEWS 24

  জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ জয়পুরহাটের কালাইয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর হাইকোর্টের রায়ে ১২ একর ৬৫ শতক পুকুর ও পুকুর পাড় ব্যবহারের রায় পেল...